|
Fri 23 Mar 2012 5:27 AM BdST
|
ঢাকা, ২২ মার্চ (আরটিএনএন ডটনেট)-- সবাই সব কাজ করছে। ঘরে কিংবা বাইরে। কিন্তু মন পড়ে আছে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের খেলায়। খেলা শুরু দুপুরের পর বিকেলে। তাতে কি সকাল থেকেই যেন দিনটি আজ ওই খেলার জন্যে শুরু হয়েছে।
মতিঝিল শাপলা চত্বরে গাজীপুর পরিবহনের একটি বাস এসে থামার সাথে সাথে বাসের হেলপার নাজিম চিৎকার করে ওঠে। কারণ জানতে চাইলে আনন্দের সাথে সে বলে আজ বাংলাদেশের খেলা। খেলা দেখবো, সারাদিন অনেক ভাড়া মারছি, আজ আর না।
প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রথম ফাইনালেই পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ। রাস্তাঘাট, বাস, রিক্সা, হোটেল-রেঁস্তোরা সবখানেই যেন একই আলোচনা। আর কোনো বিষয় বস্তু নেই। খেলা ফাইনাল। বিশ্বের সেরা দলগুলোকে ধরাশায়ী করার পর টাইগারদের এই খেলা দেখার বা ধারাবিবরণী শোনার সুযোগ যেন কেউ হারাতে চাইছে না।
তাই ফাইনালে পাকিস্তানের সাথে টাইগারদের লড়াই দেখতে দুপুরের আগে থেকেই রাজধানীর মানুষ ঘরমুখো হতে শুরু করে। বেলা ১২টার পর থেকেই পল্টন, গুলিস্তান, শাহবাগ, ফার্মগেট এলাকাসহ সব প্রধান সড়কই অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়ে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া যেন কেউ রাস্তায় বের হতে চাইছেন না। আর খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে নিত্য দিনের যানজটও যেন হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে ব্যাংকপাড়ার ব্যাংকগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। গ্রাহক তেমন একটা আসতে দেখা যায়নি। কথা বার্তা যা কিছু ঐ খেলা নিয়ে। মুঠোফোনে কথা তাও খেলা নিয়ে আলোচনাতেই ব্যস্ত ছিলেন অনেকে।
হোটেলে খেতে এসে বয় বেয়ারা থেকে শুরু যেসব গ্রাহক এসেছেন তাদের মুখেও এশিয়া কাপ নিয়ে আলোচনা। ফাইনালে কি করবে বাংলাদেশ। হারাতে পারবে তো পাকিস্তানকে? এছাড়া অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে খেলা দেখার জন্য বিশেষ ছুটি দেয়া হয়েছে। ছুটি মিলেছে কোনো কোনো স্কুলেও।
তবে সরকারি ব্যাংগুলোতে ছুটি না হলেও সেগুলোতে তেমন কর্মচাঞ্চল্যতা দেখা যায় নি। সবাই খেলার খবর রাখতেই ব্যস্ত। এফএম রেডিওতে খেলার ধারাবিবরণী শুনছেন অনেকেই।
এদিকে, প্রতিটি রাস্তার পাশের টিভির শোরুমগুলোর জটলা পাকিয়ে খেলা দেখছেন সাধারণ মানুষ। অফিস ছুটি হওয়ার পরে রাস্তায় পাশে দোকানে খেলা দেখার জন্য ভিড় করছেন।
পল্টন মোড়ে একটি টিভির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন একজন। নাম জানতে চাইলে বলেন সোহেল। এভাবে খেলা দেখার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসা একটু দূরে, তাই যেতে সময় লাগবে। এর মাঝে খেলার অনেক মজার অংশ মিস করতে পারি। তাই রাস্তার পাশে দাড়িয়ে খেলা দেখছি।
দাড়িয়ে খেলা দেখতে কষ্ট হচ্ছে না জিজ্ঞেস করতেই সরল উক্তি, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সফলতার কাছে সেই কষ্ট কিছুই না।’
আর যারা দেখতে পারছেন না তারা মিস করতে চান না। রাস্তায় হাটতে হাটতে কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে, বাসে বসে অনেককেই মোবাইলের এফএম রেডিওতে লাউডস্পিকারে খেলার ধারাবিবরণী শুনছেন। পাশে থেকে আড়ি পেতে শুনছে ওই ধারাবিবরণী ভাষ্য। যারা শুনতে পারছে না। তারা জিজ্ঞেস করে জেনে নিচ্ছেন।
সড়কগুলোতে যারা খেলা দেখছেন এক একটি উইকেটের পতন হলেই চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করছেন। দেখে মনে হবে যেন তারা মাঠে বসে খেলা দেখছেন। চিৎকার করে বলছে, বাংলার টাইগাররা এগিয়ে যাও, বিজয় আসবেই। আর সব মিলিয়ে সারা শহর কেনো সারা দেশ ছিল যেন সত্যিই ক্রিকেটময়। আরটিএনএন ডটনেট/আরজেড/আরআই_ ২২২০ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|